“এই দেশে একদিন”
এই দেশে একদিন ধানের গন্ধে ভরে উঠেছিল বাতাস,
নদীর জলে লেগেছিল রোদের মায়া—
আলো-ছায়ার খেলায় দুলেছিল শালিক,
বাতাসে ঘুরেছে শিউলির সুগন্ধ।
গভীর সবুজের ছায়ায় শুয়ে ছিলো নিস্তব্ধ দুপুর,
শিমুলের ডালে ডেকেছিল কোকিল,
মাঠের ফাঁকে ফাঁকে রোদের রেখায়
স্বপ্ন জেগেছিল অলস মাটির কোলে।
সেই চৈত্রে জন্ম আমার—
পথের ধুলায় লেগেছিল মায়ের চরণ,
পাখিদের গানে ভরে উঠেছিল আকাশ,
আর কাঁঠাল পাতার ছায়ায় শুয়ে
আমি প্রথম দেখেছিলাম পৃথিবীর আলো।
এখন—
এই মাঠ, এই পথ, এই নদী
সব ভুলে গেছে তার পুরোনো ভাষা,
সোনালি ধানের ওপর নেমেছে কালো রাত।
একটা ম্লান বাতাস বইয়ে যায় বুকের ভেতর,
জলছাপ স্মৃতিরা ভেসে ওঠে ঢেউয়ের মতো,
ফসলের গন্ধে মিশে থাকে পুরনো দিনের সুর,
যে সুরে ছিল সুখ, ছিল দিগন্তবিস্তৃত আশা।
তবু আমি এখনো দেখি-
ঐ দূরের পাখিরা ডানা মেলে উড়ে যায়,
নদীর জলে একচিলতে ঢেউয়ের আলোয়-
আমার ভেতরে জন্ম নেয় নতুন সকাল।
তাই প্রত্যুষে রোজ প্রজাপতির সাথে খেলা করি.
আর ভাবি-
এই মাটি আমার, এই বাতাস আমার!
এখানে বুক ভরে নেই নিঃশ্বাস!
____ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন