বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের, কৈলাটি, নগুয়া,ও গন্ডাবেড় গ্রাম
ঘেষে বয়ে চলা মরা গাঙ ও কংস নদীর
বিভিন্ন ডুবা দখল করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রটি, সরকারী কার্ডধারী জেলেদের নদী থেকে বিতাড়িত করে এবং তাদের সরঞ্জাম ভেঙে নিয়ে যায়। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছে লিটন খান নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন খান এবং তার সহযোগীরা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম ব্যবহার করে এসব অরাজকতা চালাচ্ছে। এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, প্রতারণা, ঠকবাজি, লুটপাট, এবং দখলবাজির মাধ্যমে স্থানীয় জেলেরা, কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে, মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হয়।
স্থানীয় গন্ডাবেড় গ্রামের এই কথিত বিএনপি নেতার পরিচয় দানকারী লিটন খান, যিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো দলের আদর্শের প্রতি অনুগত নন, বরং সুবিধাবাদী একজন ব্যক্তি, বলছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে আরও নানা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্হানীয় নগুয়া বাজারে করলার বীজ বিক্রির ক্ষেত্রে, যেখানে ১০০ টাকার প্যাকেট ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং কৃষকদের ঠকিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।এই বীজে বাম্পার ফলনের কথা থাকলেও,বীজ নকল হওয়ায় এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এমনকি এলাকায় বিভিন্ন এনজিও সমিতির ঋন প্রদানে দালাল চক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করেন তিনি।
তাছাড়া, তার কীটনাশক বাণিজ্যেও একই ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে। একদিকে নদী দখল করে সরকারী লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা চলছে, অন্যদিকে ধর্মীয় মসজিদের সাইনবোর্ড ব্যবহার করেও অপকর্ম চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিদর্শনে এসে নদী দখলের বিষয়টি চিহ্নিত করলেও, পরবর্তীতে তা পুনরায় দখল হয়ে গেছে। এই সিন্ডিকেটের প্রধান লিটন খান তার দলের সদস্যদের সাথে একযোগে এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং জানায় যে, দ্রুত লিটন খান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা না হলে, কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
এদিকে, স্থানীয়রা বলেন, লিটন খান কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই বিএনপির নামে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। বিএনপির দুর্দিনে তিনি মাঠে কখনো দেখা দেননি, এখন যখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তিনি নতুন করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটা মুদি দোকানের আড়ালে এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আপনি একজন পরিচ্ছন্ন নেতা, আপনার নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চালানো হচ্ছে। দয়া করে বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব সহকারে দেখে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। অন্যথায়, দলীয় সুনাম আরো ক্ষুন্ন হবে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।
অপরদিকে, স্থানীয় জনসাধারণ জানায়, যেহেতু এই চক্রটি সেনাবাহিনীর আদেশ অমান্য করে তার কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাই তারা আশা করছেন, সেনাবাহিনী ও বিএনপি নেতৃত্ব দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান করবে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে, জনগণের শেষ ভরসা বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তারা যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তবে স্থানীয়রা ঘোষণা করেছেন যে, কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।