এটিএম মাজহারুল ইসলাম, ব্যুরো চীফ (কুমিল্লা):
ভোর রাতে অবৈধভাবে গোমতী নদীর চরের মাটিকাটার মহোৎসব আটকে দিলেন এক বিএনপি নেতা। অবৈধভাবে মাটিকাটার কাজে ব্যবহারিত ১টি ট্রাক্টর আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
অবৈধভাবে গোমতীর চরের মাটিকাটা বন্ধ করা ব্যক্তি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সি তিনি কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনজুরুল আহসান মুন্সির পুত্র।
(৪ এপ্রিল ২০২৫ইং) শুক্রবার ভোর রাতে কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা শিবনগর এলাকার গোমতী চরের মাটিকাটা বন্ধ করেন ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সি।
জানা যায়, গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই এখন চলছে মাটি খেকোদের কাণ্ড। জিম্মি করে লুটে নেওয়া হচ্ছে অসহায় কৃষকদের জমির মাটি। স্থানীয়দের প্রবল আপত্তি এবং প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও মাটি লুটেরাদের দৌরাত্ম্য যেন থামছেই না। প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাটি সিন্ডিকেটের এমন কর্মকাণ্ড চলছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক স্থানে প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন নদীর বালু উত্তোলন ও ট্রাক্টরে করে মাটি কেটে ২০টি ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও বেপরোয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সি বলেন, গত বছর গোমতীর ভাঙ্গনে যে বন্যার ভয়াবহতার দেখেছি সে কথা মনে হলে এখনো আঁতকে উঠি। আমার বাবার স্বপ্নের দেবিদ্বারের মানুষ কোন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকতে পারেনা। এই দেবিদ্বারের প্রত্যেকটি মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমি নিজে আজ গোমতীর চরের মাটিকাটা বন্ধ করে ট্রাক্টর পুলিশে সোপর্দ করি। এই সিন্ডিকেট যত শক্তিশালী হউক না কেন আমি গোমতীর মাটি কাটতে দিবো না। গোমতীর মাটি কাটার সাথে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা থাকলেও কোন রকম ছাড় দেয়া হবে না।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সি অবৈধভাবে গোমতী নদীর চরের মাটিকাটা বন্ধ করে ৪টি ট্রাক্টর আটক করে একটি থানায় নিয়ে আসেন। বাকী ৩টি ট্রাক্টর আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠালে ট্রাক্টর গুলো পায়নি।