মোঃ রাসেল শেখ।
কালিয়া নড়াইল প্রতিনিধি।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলুমপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ঠান্ডু মোল্লার সমর্থকদের হামলায় বিএনপি নেটা জনী মোল্লাসহ অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দুই গ্রুপের নেতা-সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে, ১৪ মার্চ বিকেল বেলা গাজিরহাট বাজারে জনি মোল্লা গ্রুপ আব্দুর রউফ মোল্লাকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। ১৫ মার্চ সকালে, জনি মোল্লাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় জনি মোল্লাসহ অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হন, এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন আব্দুল কাদের মোল্লা (৬০), আশিক (২০) ও পনি (৩০)। গুরুতর আহত জনি মোল্লা ও হাসিমকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা নিজেও হামলার শিকার হন। ঠান্ডু মোল্লা গ্রুপের হামলায় পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত হন এবং তাদেরও চিকিৎসার জন্য কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি এই ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সংঘর্ষের মূল কারণ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন মতামত থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং পুরনো দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। জনি মোল্লা ও তার সমর্থকরা একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে এ সংঘর্ষ ঘটে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এখনও এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।